অকথিত মেরামত

C1

448 מילים · ⁦~2⁩ דק' קריאה · מתקדם

বৃষ্টিভেজা বৃহস্পতিবার বিকেলে যখন মৃণাল তার পুরনো রেসিং সাইকেলটা নীলার এলোমেলো কারখানায় ঠেলে নিয়ে ঢুকল, ততক্ষণে সে তিন রকম করে কথা সাজিয়ে ফেলেছে যাতে নিজের অসাবধানতার কথা না বলতে হয়। ফ্রেমের গাঢ় পান্না সবুজ রংটা জানালা দিয়ে আসা ক্ষীণ আলোয় চকচক করে উঠছিল। পেছনের চাকার কাছে একটা সূক্ষ্ম কিন্তু উদ্বেগজনক বাঁক দেখা যাচ্ছিল। এলিনা, যে খদ্দেরদের সঙ্গে সাধারণত শুধু মাথা নেড়ে কথা বলে, সাইকেলটার দিকে তাকিয়ে এমন নীরব পর্যবেক্ষণ করল যেন সে অনেক বেশি খারাপ অবস্থা দেখেছে কিন্তু এই ত্রুটিটা তার কাছে আলাদা রকমের আকর্ষণীয় লেগেছে। "মনে হচ্ছে আঘাতটা সরাসরি নয়, একটু ছুঁয়ে গেছে", সে বলল। তার গলায় সেই পরিমিত সুর ছিল যা পেশাদার দূরত্ব আর দুর্ঘটনার পেছনের গল্প জানার সামান্য কৌতূহল দুটোই বুঝিয়ে দিচ্ছিল। মৃণাল পা বদলাতে বদলাতে ভাবছিল তার এই মন্তব্যটা কি বিস্তারিত বলার আমন্ত্রণ নাকি শুধু নীরবতা ভাঙার উপায়।

সে কিছুক্ষণের জন্য পেছনের ঘরে চলে গেল। ফিরে এল ক্যালিপার্স আর একটা ছোট নোটবুক নিয়ে, যার পাতায় শুধু তারই বোঝা সাংকেতিক সংক্ষেপণ লেখা। পরবর্তী কুড়ি মিনিট সে প্রায় নীরবে কাজ করল। মাঝে মাঝে থেমে মাপ নিয়ে তুলনা করছিল আর এমন সব সংখ্যা লিখছিল যা মৃণালের কাছে অর্থহীন। সে লক্ষ করল এলিনা আবহাওয়া বা সপ্তাহান্তের পরিকল্পনা নিয়ে সাধারণ কথাবার্তা এড়িয়ে গেল। বরং যেন পরে মনে পড়েছে এমনভাবে বলল যে পুরনো স্টিলের ফ্রেমে এরকম বাঁক দেখা গেলে ওয়েল্ডিংয়ের জায়গায় লুকোনো দুর্বলতা বেরিয়ে পড়তে পারে যদি কেউ জানে কোথায় খুঁজতে হয়। এই ইঙ্গিত থেকে বোঝা যাচ্ছিল সাইকেলটা শুধু সোজা করলেই চলবে না।

মৃণাল তার আত্মসম্মান বাঁচানোর সুযোগ পেয়ে জিজ্ঞাসা করল শনিবার সকালের মধ্যে কাজটা শেষ করা সম্ভব কিনা। এলিনা মাথা একটু কাত করে তাকাল, যে ভঙ্গিটা সে চিনত। এটা তার পছন্দের উপায়, তাড়াহুড়ো করে প্রতিশ্রুতি না দিয়ে আগে ভেবে নেওয়ার। "হতে পারে", সে জবাব দিল, "তবে আমি পুরো আক্রান্ত অংশটা বদলে দিতে চাই। এতে সাইকেলের চালানোর মান আরও ভালো থাকে, ধাতুকে জোর করে আগের আকারে ফেরানোর চেয়ে।" তার কথার ধরন থেকে মনে হল সে পেশাদার সৌজন্য দেখাচ্ছে, কোনো কঠিন পরামর্শ নয়। মৃণাল আরও ভালো কাজটাই মেনে নিল। সে খুশি যে এলিনা দুই দিন আগে পার্কের যে নিচু দেওয়ালটা সে ভুল করে ধাক্কা মেরেছিল সে বিষয়ে কিছু জিজ্ঞাসা করেনি।

নতুন টিউব তৈরির সময় এলিনা বলল যে আসল রংটা এখন আর ঠিক ওই শেডে তৈরি হয় না। এই সূক্ষ্মতা অনেক মালিকের চোখ এড়িয়ে যায় কিন্তু তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। মৃণাল নিজের অজান্তেই মাথা নেড়ে সায় দিল, যদিও আগে সে কখনো এসব বিষয়ে মনোযোগ দেয়নি। যখন সে ওয়ার্কশপ থেকে বেরোল ততক্ষণে বৃষ্টি কমে গেছে আর রাস্তার বাতি জ্বলে উঠেছে। তার হাতে ছিল একটা রসিদ যাতে খরচটা তার আন্দাজের চেয়ে বেশি লেখা। সঙ্গে ছিল এই অনুভূতি যে এলিনা তার বলা না-বলা সবকিছু বুঝে গেছে। পরের সোমবার যখন সে সাইকেল নিতে গেল, ফ্রেমটা দেখে মনে হচ্ছিল প্রায় অক্ষত, অথচ কেমন যেন আরও শক্তিশালী। যেন মেরামতটা শুধু শারীরিক ক্ষতি নয়, তার পেছনের অকথিত গল্পটাকেও শুষে নিয়েছে।

האם הבנתם את הטקסט?

בחרו תשובה אחת לכל שאלה.

1মৃণাল প্রথম কোন দিন সাইকেলটা ওয়ার্কশপে নিয়ে গিয়েছিল?
2সাইকেলের ফ্রেমের রং কী ছিল?
3চালানোর মান ভালো রাখতে এলিনা কী করতে বলেছিল?
4মেরামত করা সাইকেলটা মৃণাল কবে নিতে গিয়েছিল?
5এলিনা প্রায় নীরবে মাপ নিতে কতক্ষণ সময় কাটিয়েছিল?

יש לכם רעיון לפיצ'ר חדש?

ספרו לנו מה הייתם רוצים לראות בהמשך — אנחנו קוראים כל הודעה.

שלחו רעיון →