ম্লান ছবি

C1

261 palavras · ⁦~1⁩ min de leitura · Avançado

পিসিমার মৃত্যুর পর তাঁর অগোছালো পড়ার ঘর থেকে পুরনো বইয়ের বাক্স গোছাতে গোছাতে অমিত একটি সরু উনিশ শতকের কবিতার সংকলন হাতে পেল। পাতাগুলোর কিনারা হলুদ হয়ে গিয়েছে। দুটি সনেটের মাঝে যেন ইচ্ছে করেই লুকানো ছিল একটি ছোট সেপিয়া ছবি, যা বইয়ের আকারে কেটে ফেলা হয়েছিল। ছবিতে দেখা যাচ্ছে প্রায় পঁয়ত্রিশ বছরের এক নারী, যিনি একটি অলংকৃত লোহার গেটের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর মুখে সেই যুগের সাধারণ কঠিন ভাবের বদলে এক ধরনের শান্ত হাসির আভা। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল ছবির পেছনে পেন্সিলে লেখা কথা: ‘এলা, ভুল বোঝাবুঝির আগে, ১৮৯৭’।

অমিত কখনো দিদিমাকে এই নামে কাউকে উল্লেখ করতে শোনেনি, কিন্তু হাতের লেখাটা তাঁর ঠাকুমার চিঠির সেই সুন্দর অক্ষরের সঙ্গে হুবহু মিলে যাচ্ছিল। কৌতূহলী হয়ে সে বিকেলের বাকি সময়টা পারিবারিক চিঠিপত্র ঘেঁটে কাটাল। শেষে জানতে পারল যে এলা ছিল তার দিদিমার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। ১৮৯৮ সালের বসন্তে এক অজানা সম্পত্তি নিয়ে তুমুল ঝগড়ার পর তাদের সম্পর্ক চিরতরে ভেঙে যায়।

ছবিটির যত্ন করে রাখা কিনারা আর লুকিয়ে রাখার জায়গা দেখে মনে হল দিদিমা বন্ধুত্ব শেষ হওয়ার অনেক পরেও সেই স্মৃতিকে মূল্য দিতেন। অমিত ভাবছিল বইটি হয়তো একসময় এলারই ছিল। ভেতরের প্রথম পাতায় ছোট একটি মালিকানা স্টিকারে শুধু ‘ই.ম.’ আর ১৮৯৬ সাল লেখা, যা ছবির এক বছর আগের। এই আবিষ্কার তাকে এমন অনুভূতি দিল যেন সে কোনো ব্যক্তিগত মিলনের চেষ্টায় অনধিকার প্রবেশ করেছে যা কখনো পুরোপুরি ঘটেনি। সে আবার সনেটগুলো মন দিয়ে পড়তে লাগল, যাতে কোনো গোপন ইঙ্গিত থাকতে পারে অনুশোচনা বা অবশিষ্ট স্নেহের।

সন্ধ্যার মধ্যে ছবিটি অ্যাসিডমুক্ত কাগজের মাঝে যত্ন করে রাখা হল, তবে অমিত ঠিক করতে পারল না সেটা আবার আগের লুকানো জায়গায় ফিরিয়ে দেবে নাকি নতুন করে পরিবারের ইতিহাসের অংশ হিসেবে ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখবে।

Você entendeu o texto?

Escolha uma resposta para cada pergunta.

1ছবির পেছনের লেখায় কোন বছরে তোলা বলা হয়েছে?
2চিঠিগুলো থেকে অমিত জানতে পারল, কীসের কারণে এলা ও তাঁর পিসিমার সম্পর্ক চিরতরে ভেঙে গিয়েছিল?
3বইয়ের প্রথম পাতার স্টিকারে তারিখ ছাড়া আর কী লেখা আছে?
4ছবির নারীকে অমিত কত বছরের বলে অনুমান করেছিল?
5অমিতের গবেষণা অনুসারে, ১৮৯৮ সালের কোন ঋতুতে এলা ও তাঁর দিদিমার মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল?

Tem uma ideia de funcionalidade?

Conte-nos o que gostaria de ver a seguir — lemos cada mensagem.

Enviar ideia →