বাগানে শেষ বিদায়

B2

395 reči · ⁦~2⁩ min čitanja · Viši srednji

শেষ ক্রেটগুলো ট্রাকে তোলা শেষ হওয়ার পর আগস্টের সূর্য ধীরে ধীরে পাহাড়ের আড়ালে ডুবছিল, যে পাহাড়গুলো ঘিরে রেখেছিল শ্যামল বাগানকে। লতিকা সেখানে ষোলো বছর বয়স থেকে প্রতি গ্রীষ্মে কাজ করত, কিন্তু আজ ছিল তার শেষ দিন। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তাব পেয়েছে এবং জানত পরের বছর আর ফিরবে না। মালিক সাহেব সকালে তাকে ডেকে বলেছিলেন, তাকে খুব মিস করবেন; তাঁর স্ত্রী বিশেষ করে তার জন্য একটা লেবুর কেকও বানিয়েছিলেন। তবু পরিবেশটা কেমন চুপচাপ ছিল, যেন সবাই বুঝতে পেরেছিল যে বিদায়ের কথা না বললেই সহজ হয়।

বিকেলে লতিকা শেষ মৌসুমের পেয়ারা তুলছিল। তার হাত ব্যথা করছিল বারবার একই কাজের জন্য, যেটাতে সে গত আট সপ্তাহে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল। সাড়ে চারটার সময় সে একটু থেমে দেখল দুটো বক পাখি সারির উপর দিয়ে নিচু হয়ে উড়ছে। এই দৃশ্য দেখে তার প্রথম দিনের কথা মনে পড়ল, যেদিন সে খুব নার্ভাস হয়ে এসেছিল। সেদিন সে দুটো ঝুড়ি ফেলে দিয়ে ফলগুলোতে চোট লাগিয়েছিল এবং সুপারভাইজারের কাছ থেকে হালকা বকুনি খেয়েছিল। এখন সে দশ মিনিটেরও কম সময়ে একটা ক্রেট পূর্ণ করতে পারে একদম নিখুঁতভাবে।

পাঁচটার ঠিক আগে অন্য মৌসুমী শ্রমিকরা পুরনো পাথরের গোয়ালঘরের কাছে জড়ো হল। টমাল, যে সারা গ্রীষ্ম ট্রাক্টর চালিয়েছে, একটা বোতল বের করল যেটা সে অনেকদিন ধরে লুকিয়ে রেখেছিল। তারা প্লাস্টিকের কাপে করে সবাইকে দিল, আর আলোটা সোনালি হয়ে উঠল। লতিকা শুনছিল তার সহকর্মীরা গ্রীষ্মের গল্প করছে: যেদিন সেচের পাইপ ফেটে গিয়েছিল, যেদিন একজন পর্যটক সবচেয়ে উঁচু গাছে উঠতে চেয়েছিল, আর যেদিন সকালে শিলাবৃষ্টি পুরো ফসলের ক্ষতি করতে পারত। সে বুঝতে পারছিল যে এদের অধিকাংশকে আর কখনো দেখতে পাবে না।

কাপগুলো খালি হয়ে গেলে মালিক সাহেব লেবুর কেক নিয়ে এলেন। তিনি সবাইকে কঠোর পরিশ্রমের জন্য ধন্যবাদ দিলেন এবং বললেন এই বাগান এমন নিষ্ঠাবান দল পেয়ে ভাগ্যবান। লতিকার গলায় হঠাৎ একটা চাপ অনুভব হল; সে ভাবেনি একটা অস্থায়ী কাজের প্রতি এতটা মায়া জন্মাবে। সে যখন ছটা পনেরোতে শেষ বাক্সগুলো ট্রাকে তুলতে সাহায্য করছিল, তখন ভাবছিল ঢাকার নতুন ছাত্রছাত্রীরা কি কখনো বুঝবে গোধূলিতে গাছের মাঝে দাঁড়িয়ে পাকা ফলের গন্ধ নেওয়ার অর্থ কী।

পরে যখন সে চেনা রাস্তা দিয়ে সাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরছিল, লতিকা একবার পিছনে তাকাল। বাগানের আলোগুলো জ্বলে উঠেছে, গভীর সন্ধ্যার আলোয় মৃদু আভা ছড়াচ্ছে। সেখানে সে যা শিখেছে তা সে বুঝতে পারেনি আগে: ধৈর্য, শারীরিক পরিশ্রমের তৃপ্তি এবং যখন কোনো ভালো জিনিস তার স্বাভাবিক সমাপ্তিতে পৌঁছায় তখন যে নীরব বিষাদ আসে। কাল সে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গোছগাছ শুরু করবে, কিন্তু আজ রাতে সেই লেবুর কেকের স্বাদ আর সবাই মিলে খাওয়া শরবতের স্মৃতি তার সঙ্গে বাড়ি পর্যন্ত রইল।

Da li ste razumeli tekst?

Izaberite jedan odgovor za svako pitanje.

1লতিকা তার শেষ দিনের আগে বাগানে কতদিন কাজ করেছিল?
2লতিকা বক পাখি দেখতে কখন থেমেছিল?
3বাড়িতে তৈরি শরবতের বোতল কে বের করেছিল?
4শ্রমিকরা শেষ বাক্সগুলো কখন লোড করা শেষ করল?
5লতিকার শেষ দিনের জন্য মালিক সাহেবের স্ত্রী কী বানিয়েছিলেন?

Imate ideju za novu funkciju?

Recite nam šta biste želeli da vidite sledeće — čitamo svaku poruku.

Pošalji ideju →